বিশেষ প্রতিবেদক :
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর কাছে পৃথক আবেদন করেছেন মামলার ১ নম্বর আসামি পিকআপচালক মিজান মিয়া এবং ২ নম্বর আসামি কলেজ শিক্ষার্থী ইকরান হোসেন।
আবেদনে তারা অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম, অসঙ্গতি ও হয়রানি হয়েছে। তারা দাবি করেন, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের জন্য কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার বাইরে কোনো ঊর্ধ্বতন সংস্থা বা কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করা প্রয়োজন।
মিজান মিয়া তার আবেদনে উল্লেখ করেন, আটক হওয়ার সময় তার পিকআপে মোট ১৪৪ কেজি গাঁজা ছিল। তবে তার অভিযোগ, এর মধ্যে ৮৪ কেজি গাঁজা ঘটনাস্থল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে মামলায় মাত্র ৬০ কেজি গাঁজা জব্দ দেখানো হয়। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ, জব্দ তালিকা, আলামত সংরক্ষণ এবং মামলার নথিতে উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কলেজ শিক্ষার্থী ইকরান হোসেনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে পুনরায় মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় অশালীন আচরণ এবং মৃত মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেছেন।
অন্যদিকে, ইকরান হোসেন তার আবেদনে দাবি করেন, তিনি একজন কলেজ শিক্ষার্থী এবং মাদক ব্যবসা বা পরিবহনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবুও তাকে মামলার ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে, যা তার শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইকরান হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানানো হলেও, তার বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দুই আবেদনেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই (নিঃ) জনি কান্তি দে-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পাশাপাশি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুনের ভূমিকা, জব্দ তালিকা, আলামতের রেকর্ড, জিডি, এজাহার, গ্রেপ্তার মেমো, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং মামলার অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
তারা আরও অনুরোধ জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে তাদের ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, কুমিল্লার পুলিশ সুপার,থানার ওসি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং কুমিল্লা জেলা প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে জানিয়েছেন আবেদনকারী দুই আসামি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই জনি কান্তি দে এর সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার মোবাইল সংযোগটি পাওয়া যায়নি।