অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর গুলশান থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ শুনানি শেষে পাঁচশো টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্বশত্রুতা ছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় ৪১২ নং রুমে সাক্ষাৎ হলে আসামিরা তাকে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং কনভোকেশন অংশগ্রহণের জন্য বলেন।
এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার সময়ে আসমি রাজ্জাকের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান।
আসামি রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশে মুখমণ্ডলে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এসময় তাকে এলোপাথারি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। তখন তার বন্ধুবান্ধব ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
এতে অজ্ঞাতনামা ১০-২২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরমান আলী আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গত ৫ মার্চ শুনানি শেষে আদালত রিয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একইসঙ্গে অপর তিন আসামি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদারের রিমান্ড ও জামিন উভয় নামঞ্জুর করেন। পরে গত ১২ মার্চ এই তিনজন জামিন পান।