খেলাধুলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সতর্কতা সত্ত্বেও আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রয়েছে ইরানের। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এএফসির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসর পল জন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বলেই তাদের ধারণা। এএফসির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যতদূর আমরা জানি, ইরান খেলছে।
আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, তবে এই মুহূর্তে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ইরান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল এবং বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ দেখতে চায় এএফসি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে গেলে ইরান দলের ‘জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে’। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এ বছরের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছিলেন, ইরান দলকে স্বাগত জানানো হলেও ‘তাদের নিজের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সেখানে থাকা উপযুক্ত হবে না’।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়ায় এই উদ্বেগ আরো জোরালো হয়েছে।
এদিকে আলাদা এক ঘটনায় ইরানের নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়ার আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে অংশ নিতে গিয়ে ইরান দলের সাতজন সদস্য শুরুতে আশ্রয় চেয়েছিলেন।
জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা হয়েছিল বলে জানা যায়।
অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বদলের পর এখন মাত্র দুইজন প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের অবস্থান বদলাতে তাদের পরিবারের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ পাল্টা অভিযোগ করেছে, অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের সেখানে থেকে যেতে চাপ দিচ্ছে।
বর্তমানে ইরানে ফেরার অপেক্ষায় থাকা খেলোয়াড়রা কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এএফসির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসর পল জন বলেন, নারী দলের সদস্যদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। ‘এটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, আমরা সেটিকে সম্মান জানাব,’ বলেন তিনি।