
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ আদালতের সেরেস্তাদার সফিকুল ইসলামের বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ১৬ গ্রেডে সরকারি চাকরিতে সীমিত বেতন-ভাতার বিপরীতে নিজ জেলা গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে দুটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ, নিজ এলাকা ও শ্বশুরবাড়ি এলাকায় নিজের এবং স্ত্রীর নামে জমি ক্রয়সহ বন্দক রাখা। বগুড়া শহরের কলোনিপাড়ায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জমিসহ বহুতল ভবন ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে এই সফিকুলের বড় ছেলে ছাত্রলীগ নেতার পরিচয় গোপন রেখে সদ্য সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পেশকার পদে চাকরির সময় থেকেই সফিকুল ইসলামের সম্পদ বৃদ্ধির প্রবণতা শুরু হয়। পরবর্তীতে সেরেস্তাদার পদে পদোন্নতি পাওয়ার আগেই তাঁর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে এসব সম্পদ গড়ে তুলেন তিনি। তবে এসব সম্পদ তাঁর বৈধ আয় ও পারিবারিক বৈধ উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড, দলিল, নামজারি, কর নথি, ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
** সীমিত বেতন, বিপুল সম্পদ প্রশ্ন আয়ের উৎস নিয়ে
সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী আদালতের সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত একজন কর্মচারীর বেতন নির্ধারিত স্কেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অভিযোগকারীদের দাবি, সফিকুল ইসলাম পেশকার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তাঁর সম্পদ দৃশ্যমানভাবে বাড়তে থাকে।
আরো অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সেরেস্তাদার পদে পদোন্নতির আগেই গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার নিজ গ্রামে দুটি ব্যয়বহুল ভবন নির্মাণ করেন তিনি। একই সময়ে নিজ এলাকায় এবং শ্বশুরবাড়ি এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বিঘায় বিঘায় জমি ক্রয় এবং বন্দকের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ কলোনিপাড়া এলাকায় জমিসহ একটি বহুতল বাড়ি ক্রয়ের পেছনে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন হচ্ছে তার এই ছোট পদে চাকুরী করে এই সম্পদের অর্থের উৎস কী? এসব সম্পদ কি তাঁর বেতন, বৈধ সঞ্চয়,পারিবারিক সম্পত্তি, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য কোনো বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত? নাকি সম্পদের একটি অংশের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে রাখা হয়েছে?
সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে সফিকুল ইসলামের দুটি ভবন রয়েছে,স্থানীয়দের ভাষ্য মতে ভবন দুটির নির্মাণেও কোটি টাকা ব্যয় করেছেন সেরেস্তাদার সফিকুল ইসলাম। ভবন দুটির নির্মাণকাল, নির্মাণ ব্যয়, জমির মালিকানা, নির্মাণের অর্থের উৎস এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
** নিজ এলাকা ও শ্বশুরবাড়িতে জমি কেনার অভিযোগ
শুধু নিজ গ্রামেই নয়, সফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর নামে নিজ এলাকায় এবং শ্বশুরবাড়ি এলাকায় একাধিক জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। কোনো কোনো জমি সরাসরি তাঁর নামে, আবার কোনো সম্পদ স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে সফিকুল ইসলাম সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামে কতটি জমি কেনা হয়েছে, কোন সময় কেনা হয়েছে, দলিলে মূল্য কত দেখানো হয়েছে এবং প্রকৃত অর্থে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ।
** বগুড়ার কলোনিপাড়ায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ?
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বগুড়া শহরের কলোনিপাড়া এলাকায় জমিসহ বহুতল বাড়ি।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পদ ক্রয়ে তিনি প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। তবে এ তথ্য দলিল, নির্মাণ ব্যয়, জমির বাজারমূল্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
** সম্পদ বিবরণীতে এসব সম্পদের তথ্য রয়েছে কি?
সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী সম্পদ-সংক্রান্ত তথ্য ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সফিকুল ইসলাম তাঁর চাকরির বিভিন্ন সময়ে সম্পদ বিবরণী দিয়ে থাকলে সেখানে নিজ নামে এবং স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য কীভাবে দেখানো হয়েছে, সেটিও অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে :
** গাইবান্ধার সাঘাটায় দুটি ভবন নির্মাণ।
** নিজ এলাকায় জমি ক্রয় এবং বন্দক।
** শ্বশুরবাড়ি এলাকায় জমি ক্রয় এবং বন্দক।
** স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত জমি
** বগুড়া শহরের কলোনিপাড়ার জমি ও বহুতল ভবন ক্রয়।
এসব সম্পদের কোনোটি যদি সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ না থাকে, তাহলে তার কারণ কী এ প্রশ্নও সামনে আসে।
তাই সফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের ক্ষেত্রে দলিলের পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন, ঋণ গ্রহণের তথ্য, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি এবং সম্পদ বিবরণী যাচাই করা প্রয়োজন।
যদি এসব সম্পদের বৈধ উৎস থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথির মাধ্যমে তা সহজেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
** অনুসন্ধানে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন
সফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা হলো :
১. তিনি কোন সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর পদ ও বেতন কত ছিল?
২. পেশকার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় তাঁর নামে কী কী স্থাবর সম্পদ ছিল?
৩. সেরেস্তাদার পদে পদোন্নতির আগে ও পরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কত?
৪. গাইবান্ধার সাঘাটায় তাঁর নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে কতটুকু জমি রয়েছে?
৫. সেখানে নির্মিত দুটি ভবনের আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় কত এবং অর্থের উৎস কী?
৬. নিজ এলাকা ও শ্বশুরবাড়ি এলাকায় তাঁর স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের নামে কতটি জমি রয়েছে?
৭. বগুড়া শহরের কলোনিপাড়ার জমি ও বহুতল ভবন কার নামে?
৮. ওই সম্পদ ক্রয় বা নির্মাণে প্রকৃত অর্থে কত টাকা ব্যয় হয়েছে?
৯. এসব সম্পদ তাঁর আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণীতে ঘোষণা করা হয়েছে কি না?
১০. তাঁর বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বর্তমান সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না?
সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাকে তার মুঠোফোনে কল দিলে তার সংযোগটি না পেয়ে তাকে তার হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার নক দিলেও তিনি কোন রিপ্লাই দেননি পরে তাকে তার হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলে তিনি বলেন আমার কোন বক্তব্য নেই।