বিশেষ প্রতিবেদক :
সিলেট জেলা এলজিইডি'র আওতাধীন সাতটি উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে তীব্র জনবল সংকটের কারণে সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে প্রকল্পের কাজের মান নিশ্চিত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি ভবন নির্মাণ ও সংস্কারসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় এসব প্রকল্পের কার্যকর তদারকি ও বাস্তবায়নে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, অনেক উপজেলায় বর্তমানে মাত্র একজন সার্ভেয়ার ও একজন কার্য সহকারী দিয়ে দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ চলমান প্রকল্পগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, পরিমাপ, অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং নির্মাণ কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন আরও দক্ষ জনবল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে প্রতিটি প্রকল্পে নিয়মিত নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোথাও কোথাও কাজের গতি কমে যাচ্ছে এবং নির্মাণ কাজের মান যাচাইয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা উপজেলা প্রকৌশলীর পদগুলো দ্রুত পূরণ না হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে কর্মকর্তাদের পক্ষে সব প্রকল্প সমানভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার ও অন্যান্য কারিগরি কর্মচারীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং কাজের মান নিশ্চিত করা সহজ হবে।
স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জনবল সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরগুলোকে আরও কার্যকর করা গেলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
জনবল সংকট সহ সার্বিক বিষয়ে সিলেট এলজিইডি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান জানান, আমি এই জেলার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি প্রতিটি উপজেলায় তীব্র জনবল সংকটের কারণে। এযাবৎকালীন কাজ কম থাকার কারণে কোন রকম কাজের সামাল দিয়েছি। তবে আগামী নতুন অর্থ বছরে কাজের চাপ বাড়লে জনবল সংকটের কারণে ফিল্ড লেভেলে কাজের মান ধরে রাখতে হলে সিলেটের সব কয়টি উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী সহ আরো দক্ষ জনবল নিয়োগের বিকল্প নেই। মামুন খান জানান, আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথেও জনবল সংকটের বিষয়টি অবগত করেছি। যদি জনবল সংকট নিরসনে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে সিলেটের প্রতিটি উপজেলায় কাজের মান গতি ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জিং হবে।