আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার নেতারা ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিএনবিসির ‘মানি মুভার্স’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, ‘তারা বলেছে যে তারা কোনো তথ্য ভাগ করছে না। আমরা তাদের কথাকে আপাতত বিশ্বাস করতেই পারি। আশা করি তারা সত্যিই তা করছে না।’
এর আগে সোমবার ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে উইটকফকে জিজ্ঞাসা করা হয়, রাশিয়া কি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের অবস্থান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে? যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে কেন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোর ওপর থেকে রাশিয়ার তেল কেনায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে?
জবাবে উইটকফ বলেন, ‘আমি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নই, তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারি না। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গতকালের ফোনালাপে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো তথ্য ভাগ করছে না।’
তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তিনি ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পৃথকভাবে পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। সেই আলোচনাতেও উশাকভ একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন যে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করছে না।
অন্যদিকে শনিবার ‘এমএস নাউ’ এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, রাশিয়া ইরানকে এমন কিছু তথ্য দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ, বিমান ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে সহায়তা করতে পারে।
তবে ওই প্রতিবেদনে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া সরাসরি কৌশলগত বা সামরিক যুদ্ধভূমির কোনো ভূমিকা পালন করছে—এমন কোনো তথ্য আমি দেখিনি।’
এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসি রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই সময় এমন প্রশ্ন করা সত্যিই বোকামি।’
ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অগ্রগতি দেখে তিনি ‘খুবই মুগ্ধ’ হয়েছেন।