ইরানের মিসাইল যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছায় না: পিট হেগসেথ

বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের এক মাস পূর্ণ হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ‘যুদ্ধ সচিব’ পিট হেগসেথ এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে না।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এতদিন ইরানকে যে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, হেগসেথের এই বক্তব্য তাদের সেই দাবিকে অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে।

হেগসেথের ব্যাখ্যা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ওই অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) মার্কিন সম্পদ এবং মিত্রদের জন্য হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র একাই এই সুরক্ষা নিশ্চিত করছে দেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ইউরোপীয় মিত্রদের সরাসরি মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

হেগসেথ বলেন, ‘এই মিসাইলগুলো এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্তও পৌঁছায় না; এগুলো মিত্রদের সীমানার মধ্যে। অথচ যখন অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া হয়, তখন তাদের থেকে আমরা শুধু প্রশ্ন বা দ্বিধাই দেখতে পাই।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা যেন ‘সাহস সঞ্চয় করে হরমুজ প্রণালীতে যায় এবং এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ওয়াশিংটন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বলে দাবি করেন হেগসেথ। তার মতে, বর্তমানে ইরানের সামরিকভাবে করার মতো তেমন কিছুই নেই।

কেন ইউরোপের সাহায্য প্রয়োজন?

যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও কেন ন্যাটোর সাহায্য চাইছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তেলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পের জন্য এটি এখন বড় এক রাজনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি

হেগসেথ দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক মনোবল ভেঙে পড়েছে এবং তাদের অনেক সেনাসদস্য পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান সবচেয়ে কম ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে গত ২০ দিন ধরে ইরান প্রায় একই হারে ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ছে। এমনকি মার্চের শুরুর তুলনায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামলার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইরানের হামলাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত বা সুনির্দিষ্ট হচ্ছে।

এদিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ১৮টি মার্কিন কর্পোরেশনের ওপর সরাসরি হামলা চালাবে। ইরানের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়াশিংটনের ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের’ সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.