চোখের পলকেই বিদায় নিচ্ছে রমজান, শেষ মুহূর্তগুলো কাজে লাগানোর এখনই সময়

ধর্ম

ইসলামিক ডেস্ক: ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রমজান, কিন্তু তার বিদায়ের শব্দ আমরা অনেকে টেরই পাচ্ছি না। মনে হয় যেন সবে তো শুরু হলো। সেহরির সেই নীরবতা, ইফতারের অপেক্ষা, তারাবির দীর্ঘ কিয়াম, আর গভীর রাতের দোয়া। অথচ চোখের পলকেই মাসটি শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

রমজান এমন এক সময়, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দরজা খুলে দেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। (বোখারি : ১৮৯৯, মুসলিম : ১০৭৯)

এই মাসে অসংখ্য রাত আমরা পেয়েছি, যখন দোয়ার দরজা খোলা ছিল; অসংখ্য সিজদা করেছি, যেখানে চোখ ভিজে উঠেছে অনুতাপে; কোরআনের তিলাওয়াত শুনে বা পড়ে হৃদয় নরম হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সেই মুহূর্তগুলো যথাযথভাবে ধারণ করতে পেরেছি? নাকি দিনগুলো কেবল দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেই কেটে গেছে?

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আন-নূর : ৩১)

রমজান আমাদের জন্য সেই তাওবারই সুবর্ণ সুযোগ। এ মাস মানুষকে নিজের ভেতরের দিকে তাকাতে শেখায়, গোনাহ থেকে ফিরে আসার সাহস দেয় এবং আল্লাহর দিকে নতুন করে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

এখনও সময় পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। নাজাতের দিনগুলো আমাদের সামনে আছে। হয়তো কয়েকটি রাত, কয়েকটি সিজদা, কয়েকটি আন্তরিক দোয়া, যা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যেতে পারে। তাই এই বাকি সময়টুকুতে যদি আমরা একটু বেশি ইস্তিগফার করি, একটু বেশি কোরআনের সাথে সময় কাটাই আর অন্তর থেকে তাওবা করি, তবে সেটাই হতে পারে আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের কারণ।

কারণ কেউই জানে না, আগামী বছর আমরা আরেকটি রমজান পাব কি না। অনেকেই গত বছর আমাদের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু আজ তারা নেই। তাই বিদায়ের আগে অন্তত এমন কিছু আমল রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি, যা আখিরাতে আমাদের জন্য আলো হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের রমজানের আমলগুলো কবুল করুন এবং এ মাসের বরকতকে আমাদের জীবনের স্থায়ী পরিবর্তনের কারণ বানিয়ে দিন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.