
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় অবস্থিত মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলের দনিয়া ভূমি অফিস এবং ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দালাল সিন্ডিকেট ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে তাদের ফাইল আটকে রাখা কিংবা নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হলে নির্দিষ্ট দালালদের দ্বারস্থ হওয়া যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। অফিস চত্বরের ভেতর ও বাইরে সক্রিয় এসব দালাল সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এই দালালদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং ঘুষ লেনদেনের ‘চাবিকাঠি’ হিসেবে দালালদের ব্যবহার করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রেকর্ড রুমে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত হলেও দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। দালালদের মাধ্যমেই পর্চা ও খতিয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সহযোগিতায় রেকর্ড রুমের কার্যক্রম পরিচালনা ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগত দালাল ও তাদের সহযোগীরা সাংবাদিকদের কাজে বিঘ্ন ঘটায় এবং একপর্যায়ে তাদের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা সঞ্জীব সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি। ফুটেজে তাকে বিব্রত অবস্থায় দেখা যায়। একই সময় উপস্থিত মাতুয়াইল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান হঠাৎ উত্তেজিত আচরণ করেন, যা ভিডিওচিত্রে ধারণ হয়েছে।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, দুই ভূমি অফিসে প্রায় প্রতিটি সেবাকেই কেন্দ্র করে অঘোষিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট দালাল ছাড়া সরাসরি সেবা নিতে গেলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সেবা প্রত্যাশীরা। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি মাসে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে।
এছাড়া সূত্র আরও জানায়, আসাদুজ্জামান এর আগে বাড্ডায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখনও সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান এবং স্থানীয় লোকজন দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমান কর্মস্থলেও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

