মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩০ হাজার টন ডিজেল

অর্থ ও বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসে বন্দরে ভিড়েছে ৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পৌঁছেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানি খালাস হবে। প্রয়োজনে জাহাজটিকে ডলফিন জেটিতে ভিড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

এছাড়া বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ৪ এপ্রিল আরও একটি জাহাজ ভিড়তে পারে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল বিক্রি না করতে পেট্রোলপাম্প মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে এ বিষয়ে প্রচারণা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র না থাকলে অকটেন বিক্রি করা যাবে না বলে মাইকিং করা হচ্ছে। অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও চালকদের লাইসেন্সের পাশাপাশি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে। বিষয়টি থানা পুলিশ ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তদারকি করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর থেকে দেশের বাজারে তেল সংকট নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করলে গত ৬ মার্চ থেকে সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে ঈদ সামনে রেখে ১৪ মার্চ সেই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়।

ঈদের আগে কয়েক দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ২৩ মার্চ থেকে আবারও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাম্পে তেলের সংকট দেখা দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন মোটরসাইকেল চালকরা। বর্তমানে অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোলপাম্প আছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন। প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ফিলিং স্টেশন রয়েছে ৪৬টি, জেলায় রয়েছে শতাধিক। বেশ কয়েক দিন ধরে বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে মিলছে না অকটেন।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি তেলও ডিপো থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে রেশনিং পদ্ধতিতেই তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি, যার ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ লেখা বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। আবার কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন দেওয়া হয়েছে ‘তেল নেই’ নোটিশ। যেসব স্থানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মোটরসাইকেল ও রাইড-শেয়ার চালকদের অপেক্ষমাণ লাইন ক্রমেই দীর্ঘতর হচ্ছে। চকবাজার, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, ষোলশহর, লালখান বাজার ও সিআরবি মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে একই চিত্র দেখা গেছে। অগে অনেক পেট্রোলপাম্প দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা তেল বিক্রি করলেও গত প্রায় ১৫ দিন ধরে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও কোথাও সীমিত সরবরাহের কারণে উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

লালদীঘির পাড় সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে সোমবার দুপুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। তবে বিকাল ৫টায় পাম্পটি বন্ধ দেখা গেছে। অথচ আগে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই পাম্পে তেল বিক্রি করা হতো।

নগরীর পেট্রোলপাম্পের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তাদের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পাম্পে অবস্থান করছেন এবং তেল বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.