
নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালী যৌনপল্লীতে চড়া সুদের ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বহু নারী—এমন অভিযোগ তুলে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। তিনি লিখিতভাবে পটুয়াখালী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের কাছে আবেদন করে বিষয়টি অনুসন্ধানপূর্বক গণমাধ্যমে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
আবেদনকারী সোহেলী বেগম (৩৪) দুই সন্তানের জননী। তার ভাষ্য, তীব্র আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অসহায়ত্বের কারণে ২০১৩ সালে দালালের মাধ্যমে তিনি যৌনপল্লীতে আসতে বাধ্য হন। শুরুতে স্বল্প সময় কাজ করে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পল্লীর ভেতরে কিছু বাড়িওয়ালা ও অসাধু চক্রের মাধ্যমে চড়া সুদে ঋণ দেওয়ার একটি অমানবিক প্রথা চালু রয়েছে। আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে নারীদের ঋণ নিতে বাধ্য করা হয়। একবার ঋণ নিলে সুদের চাপ এতটাই বাড়ে যে বছরের পর বছর কাজ করেও মূল টাকা শোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে তারা কার্যত ঋণদাসত্বের মধ্যে আটকে পড়েন।
সোহেলী বেগম জানান, এই ঋণচক্রের কারণে তাদের মানসিক চাপ, সামাজিক অপমান ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে প্রভাবশালী মহল ও ঋণদাতাদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয় না।
আবেদনে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে যৌনপল্লীতে চড়া সুদের ঋণপ্রথা বন্ধ, দায়মুক্তির ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী নারীদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলা হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভুক্তভোগী নারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

