বাবা মাঠকর্মী, মা বেচতেন ফুল: নিশাঙ্কার লড়াকু জীবনের নেপথ্য গল্প

খেলা

ক্রীড়া ডেস্ক: সিংহলি ভাষায় পাতুম নামের অর্থ ‘আশা’। পাতুম নিশাঙ্কা শুধু আশা নন, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলংকার ভরসা।

অথচ এই ভরসা তিনি হয়ে উঠতেই পারতেন না, যদি না প্রদীপ তার পেছনে পড়ে থাকতেন। কালুতারা বোদিয়ার চাতালে ক্রিকেট শুরু নিশাঙ্কার। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবা কালুতারা ক্রিকেট মাঠে কাজ করতেন। মাঠের ঘাস ঠিক আছে কি না দেখতেন। সেই মাঠে খেলার সুযোগ ছিল না তার ছেলের।

তিনি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তার ছেলেও ক্রিকেটার হবে। স্বামীর রোজগার কম হওয়ায় তাকে সাহায্য করতেন নিশাঙ্কার মা। ফুল বিক্রি করতেন তিনি।

নিশাঙ্কা ও তার বাবার সঙ্গে দেখা করার আগেই কাগজপত্র তৈরি করে ফেলেছিলেন প্রদীপ। স্কুলের জন্য নিশাঙ্কাকে সই করান তিনি। প্রদীপ সেদিন নিশাঙ্কাকে বলেছিলেন, ‘জানি না, আর কোনো শিশু এভাবে কোনো স্কুলের ক্রিকেট দলে সই করেছে কি না। তবে এর থেকে বড় আশীর্বাদ তুমি আর পাবে না। তোমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’

১৭ বছর পর নিজের সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যেতে দেখে কী ভাবছেন প্রদীপ? লড়াইটা সহজ ছিল না। নিশাঙ্কার ক্রিকেটের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন প্রদীপ। কিন্তু ততদিনে তিনি বুঝে গেছেন, এই ছেলে তারকা হবে। বন্ধু নীলন্থের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

একটি ফুল সরবরাহকারী সংস্থায় কাজ করতেন নীলন্থ। সেখানে সাহায্য চান তিনি। মালিক রাজিও হয়ে যান। সেখান প্রতিমাসে কিছু অর্থ নিশাঙ্কাকে দেওয়া হতো। নিশাঙ্কা যখন শ্রীলংকার হয়ে প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যান তখন তার হাতে আড়াই লাখ রুপি তুলে দেয় সেই সংস্থা। অভিষেক টেস্টেই শতরান করেন নিশাঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.