
বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, আইনি লড়াই এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সংগ্রামী নারীনেত্রী এডভোকেট রোকসানা কানিজ চৌধুরী (পলমল) নেত্রকোনা জেলা থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একজন উপযুক্ত দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিগত বছরগুলোতে তিনি আপোষহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা
রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মসূচি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময় গুলশান অফিসে তারাবির নামাজ আদায়সহ দলীয় বিষয় নিয়ে মতামত ও পরামর্শও প্রদান করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর প্রবাসকালীন সময়ের দিকনির্দেশনায় তিনি নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
২০০৯ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা
২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন এডভোকেট পলমল। তবে সে সময় দলীয় মনোনয়ন পাননি। পরে তিনি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি তাকে মাঠে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানা যায়।
আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২০০৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবং ১/১১ সময় থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় তিনি আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা প্রদান করেন। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত আদালত, বকশিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা জজ কোর্ট ও হাইকোর্টে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর মামলায় তিনি আইনগত সহায়তা দিয়েছেন।
দলীয় নেতাদের মতে, রাজনৈতিক মামলায় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্যই তাকে নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগ ও সাহসিকতা
দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেত্রকোনা জেলা ও মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ সময় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হন এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।
এ সময় তিনি নিজ অর্থায়নে আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। করোনা মহামারির সময় নিজ অর্থায়নে নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেন। এছাড়া নির্যাতিত নারী-শিশু ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছেন।
দলীয় কার্যালয় হিসেবে নিজের বাসা ব্যবহারের সুযোগ
মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন সম্প্রসারণের সময় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভেঙে ফেলা হলে নিজের বাসা প্রায় পাঁচ বছর দলীয় কার্যালয় হিসেবে বিনা ভাড়ায় ব্যবহারের সুযোগ দেন তিনি। বর্তমানে তার বাসা মোহনগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম
এডভোকেট রোকসানা কানিজ চৌধুরী (পলমল) নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার পাবইপাড়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা পাকিস্তান আমলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তার চাচা দীর্ঘ ১৫ বছর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের দাবি
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, আইনি সহায়তা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের কারণে তিনি নেত্রকোনা জেলা থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একজন যোগ্য দাবিদার।
তারা আশা করছেন, তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি সংসদে আইন প্রণয়ন ও এলাকার মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

