
অনলাইন ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার পোড়া গ্রামে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে মসজিদ কমিটি।
উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়া গ্রামে গত ডিসেম্বর মাসে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জারি করা নোটিশে বলা হয়, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা ও পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য ‘শিরক, বিদআত, গান-বাজনা ও অপসংস্কৃতি’ পরিহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী।
এ কারণে গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে গান বাজনা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ঘোষণার পর থেকে এ গ্রামে প্রকাশ্যে গান-বাজনা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
এ নোটিশ ঘিরে গ্রামবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এ বিষয়টিকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে বলছেন, বিয়ে-সাদি ও খাতনাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
নোটিশের পাশাপাশি গ্রামে সতর্কীকরণ বার্তা দিয়ে কয়েকটি ফেস্টুনও টাঙানো হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় গ্রামে শুধু সামাজিক অনুষ্ঠানই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের ওপরেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধে।
আসলাম নামের এক দোকানদার বলেন, গ্রামের নিয়ম মেনেই টেলিভিশনে খবর ছাড়া গান-বাজনা দেখেন না। এতে করে যদি পরিবেশটা ভালো হয়।
রবিউল ইসলাম নামে গ্রামের আরেকজন জানান, নোটিশ জারি করে, ফেস্টুন টাঙিয়ে এবং মসজিদে ফতোয়া দিয়ে বিয়ে-শাদীতে উৎসব অনুষ্ঠানে গান- বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র জোর করে বন্ধ করা যাবে না । নিয়ম না মানলে বিয়ে পড়াতে যাবে না মৌলভিরা তখন অন্য মৌলভি পড়াবে।
সম্প্রতি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ফেস্টুনগুলো খুলে ফেলে দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, ‘পোড়া গ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয় জানার পরে ফেস্টুন গুলো অপসারণ করা হয়েছে। গ্রামবাসীকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া গ্রামের কেউ বক্তব্য অগারগতা প্রকাশ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ‘কোনো মসজিদ কমিটি এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করতে পারে না, এটা অবৈধ। কোনো আইনি ভিত্তি বিধিবিধান নেই। আমরা এ বিষয় তাদের বুঝিয়েছি, তারা ভুল স্বীকার করেছেন।’ এই বিষয় নিয়ে তাদেরকে গ্রামবাসীদের নিয়ে বসে ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে মুচলেকা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

