অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল?

বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক: ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার মৃত্যুতে কলকাতা ছাপিয়ে বাংলাদেশেও শোকাহত অনেকে।

রবিবার যে ক্যামেরায় রাহুল- শ্বেতাদের ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল, সেটি তদন্তের জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুর আগের কয়েকটি মুহূর্ত ধরা আছে সেই ক্যামেরাতেই, এমনই ধারণা অনেকের।

এরমধ্যে
উদ্ধার হয়েছে সেই ধারাবাহিকটির ক্যামেরার কিছু ফুটেজ।
ধারাবাহিকের শুটিং করতে দিঘা গিয়েছিলেন রাহুল ও অন্য অভিনেতা, কলাকুশলীরা। রবিবার সেখানেই সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। পরে মৃত্যু হয় তাঁর।

তার পর থেকে ঘটনাটি ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। রবিবার ঘটনাস্থলে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে নানা সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। শুটিং-এর ক্যামেরার ফুটেজ ভাল ভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনাক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে আশ্বাস তদন্তকারীদের।
স্থানীয় সূত্রের আগেই খবর ছিল, পানিতে নেমে শুটিং চলছিল।

যদিও শুটিংয়ে উপস্থিত বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত ছিল।
সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জানা গেছে, শুটিং চলাকালীন নায়িকা শ্বেতা মিশ্রের হাত ধরে পানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রাহুল। শ্বেতা ও রাহুল হাত ধরে সমুদ্রের দিকে হাঁটবেন, এমনই ছিল দৃশ্যটি। দু’জনকেই নাকি বেশি গভীরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু বাতাস বেশি থাকায় তাঁরা পরিচালক ও অন্য কলাকুশলীদের কথা শুনতে পাননি।

ভিডিও ফুটেজ উদ্ধারের পরে জানা যাচ্ছে, পানিতে অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পরে প্রথমে পড়ে যান শ্বেতা। তখন তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন রাহুল। বড় ঢেউ আসায় নাকি পড়ে যান অভিনেতা। তখন কলাকুশলীদের একজন শ্বেতাকে ধরতে এগিয়ে যান। শ্বেতাকে তখনই উদ্ধার করতে পারলেও রাহুল তলিয়ে যান। তার পর তাঁকে উদ্ধার করতে পানিতে নামে স্পিড বোট।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুটিং চলায় সেই দৃশ্যও নাকি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।

পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, রবিবার হাঁটুর নীচ পর্যন্ত পানিতে রাহুল ও শ্বেতা ছিলেন। শট চলছিল। ড্রোন শটও নেওয়া হচ্ছিল। রাহুল তখন শ্বেতার হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকেন সমুদ্রের দিকে। তাঁরা চিৎকার করে বারণ করেন। কেউ কেউ বলেন, ‘যেও না, যেও না।’ জায়গাটি ঝুঁকিবহুল। তবু তাঁরা এগোতে থাকেন।

পরিচালক আরো জানিয়েছেন, ইউনিটে যাঁরা সাঁতার জানেন, তেমন ১০-১২ জনও এগিয়ে যেতে থাকেন রাহুল আর শ্বেতার দিকে।

শ্বেতার পরনে ছিল শাড়ি। শাড়ির জন্য অভিনেত্রী টাল সামলাতে পারেননি বলে জানান পরিচালক।

পরিচালকের আরো দাবি, ততক্ষণে ওদের কাছে অনেকেই পৌঁছে যান। তবে পানি টেনে নেওয়ায় ওরাও বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। তখন লাইফ বোটও এগিয়ে যেতে থাকে। বোটে করে ওদের নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা পানি খেয়ে ফেলেছিলেন রাহুল। শ্বেতার হাত ধরেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। রাহুলকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসার পরেও জ্ঞান ছিল। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পরিচালকের দাবি, রাহুলই হাত ধরে নাকি শ্বেতাকে নিয়ে অনেকটা এগিয়ে যান। অত গভীরে যাওয়া নাকি তাঁদের দৃশ্যের মধ্যে ছিল না।

সূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.