নাসার নতুন চন্দ্রাভিযানে ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছাবে মানুষ

বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক: চাঁদে মানুষের পদার্পণের পর (১৯৬৯) পেরিয়ে গেছে ৫০ বছর। বুধবার নতুন আরেকটি অভিযান শুরু করেছে নাসা। যদিও এবারের অভিযানের নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন না, তবে ১০ দিনের এই অভিযানটি চাঁদে মানুষের পরবর্তী পদচিহ্ন আঁকার পথ প্রশস্ত করবে।

এই যাত্রায় মহাকাশচারীরা চাঁদের দূরবর্তী পৃষ্ঠ থেকে আরও ৬ হাজার ৪০০ মাইল দূরে ভ্রমণ করবেন। চাঁদের এই অংশটি সবসময় পৃথিবী থেকে উল্টো দিকে থাকে এবং ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মানববাহী যান এত দূর পর্যন্ত যাবে। নাসা জানিয়েছে, সেখানে তিন ঘণ্টার অবস্থানে ক্রু সদস্যরা চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য যেমন- বিশাল গর্ত এবং প্রাচীন লাভা প্রবাহ বিশ্লেষণ ও ছবি তুলবেন। এটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অভিযানের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

এছাড়া, মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্যের ওপরও নজর রাখবে নাসা। গভীর মহাকাশ ভ্রমণ মানুষের মন ও শরীরের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা দেখা হবে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান এবং মঙ্গল গ্রহের যাত্রায় মহাকাশচারীদের সুরক্ষায় কাজে লাগবে। আর্টেমিস-২ মিশনটি সফলভাবে শেষ হলে নাসা আর্টেমিস-৪ এবং ৫ মিশনের মাধ্যমে সরাসরি চাঁদে অবতরণ করের পরিকল্পনা করছে। এর সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের মধ্যে।

১০ দিনে যা করবে
প্রথম এক থেকে দুইদিন মহাকাশচারীরা পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের বিভিন্ন কারিগরি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবেন। এর মধ্যে আছে ওরিয়ন মহাকাশযানের লাইফসাপোর্ট, প্রপালশন (ইঞ্জিন শক্তি), নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যাচাই করা। যানটি গভীর মহাকাশে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত কি না তা নিশ্চিত করবেন।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ওরিয়নের প্রপালশন সিস্টেম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইঞ্জিন বার্ন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এটি ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ নামে পরিচিত। এটি মহাকাশযানটিকে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বের করে চাঁদের অভিমুখে একটি নির্দিষ্ট পথে পাঠিয়ে দেবে।

৩-৪ দিন: চাঁদের পথে যাত্রা
চাঁদের দিকে কয়েকদিনের এই যাত্রাপথে মহাকাশচারীরা ক্রমাগত সিস্টেমগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। এর আগে কোনো মানববাহী মহাকাশযান পৃথিবী থেকে যত দূরে গিয়েছে, ওরিয়ন তার চেয়েও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবে। অভিযান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গভীর মহাকাশে ওরিয়নের যোগাযোগ ও নেভিগেশন দক্ষতা ট্র্যাক করা হবে।

ওরিয়ন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি বা পৃথিবী থেকে চাঁদের উল্টো দিকের অংশ ঘুরে আসবে। এটি এমন একটি পথ যা বাড়তি কোনো জ্বালানি ছাড়াই মহাকাশযানটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। এই ধাপে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে তার সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছাবে।

৫-৮ দিন: পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন
চাঁদে চক্র দেওয়ার পর ক্রু সদস্যরা পৃথিবীর দিকে ফিরতে থাকবেন। এই সময়ে তারা গভীর মহাকাশের আরও কিছু পরীক্ষা চালাবেন। এর মধ্যে আছে- পাওয়ার সিস্টেম, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের অনেক বাইরের পরিবেশে ক্রু অপারেশন মূল্যায়ন করা।

ওরিয়ন যখন পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে, তখন এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগে তার মূল অংশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ হাজার মাইল বেগে এটি বায়ুমণ্ডলে আছড়ে পড়বে। এই উচ্চগতিতে পুনঃপ্রবেশের সময় ক্যাপসুলটির ‘হিট শিল্ড’ বা তাপ সুরক্ষা কবচ পরীক্ষা করাটাও এই মিশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

সবশেষে মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.