প্রথমে এমপি,পরে উপজেলা চেয়ারম্যান এবার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন আশরাফুল আলম

রাজনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নজরুল ইসলামের ছেলে এ কে এম আশরাফুল আলম। পেশায় একজন আইনজীবী। তার সদা হাসিমুখ ও অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ গ্রামের মানুষ। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে গেছেন। মানুষের বিপদ-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

বাবার মানবসেবা অব্যাহত রাখতে জনপ্রতিনিধি হতে চান এ আইনজীবী। তাই প্রথমে জাতীয় সংসদ পরে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। দুটি নির্বাচনেই হেরেছেন। তবে থেমে যাননি। এবার ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অ্যাডভোকেট এ কে এম আশরাফুল আলম ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রতীক হারিকেনে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৯৭ ভোট। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এবাদুল করিম ২ লাখ ৫১ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় আশরাফুল আলমের।

এর পরের বছর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া নবীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট আশরাফুল। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে মাইক প্রতীকে তিনি পান ২৭৩৯ ভোট। এই নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাকির হোসেন সাদেক চশমা প্রতীকে ২৪ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ফলে এই নির্বাচনেও তিনি জামানত হারান।

এবার তিনি নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়েছেন। ৩১ জানুয়ারি এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে তার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কি কি করবেন, তার পরিকল্পনা এরই মধ্যে তুলে ধরেছেন। এবার নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এই আইনজীবী।

চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম আশরাফুল আলম বলেন, এমপি নির্বাচনে আমি শুধু মনোনয়ন দাখিল করেছিলাম। যেহেতু এই নির্বাচন ভালো করে করিনি, তাই এ নির্বাচনের কথা কাউকে আমি বলি না। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে ২৭৩৯ ভোট পেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র জনসেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি স্থানীয়দের জন্য যা করেছি তা একান্ত ব্যক্তিগতভাবে করেছি। কোনো নেতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে করেনি। গ্রামের মধ্যে কিছু বিষয় জড়িত, তাই আমি একাধিক নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। না হলে আমি শুধু একটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতাম। আমি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নে কী কী করবো, তা এরইমধ্যে তুলে ধরেছি।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে ১৩ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬ জন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ৩১ জানুয়ারি এই ইউনিয়নে ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।