
কুমিল্লা প্রতিনিধি :
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনায় যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা বাড়ে। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সত্য প্রকাশ ও জনস্বার্থে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন হামলা, হয়রানি কিংবা ভয়ভীতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক নির্যাতিত সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক হোসেন মামুন, দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক নীতিশ সাহা, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার খায়রুল আহসান মানিক, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, সাবেক সহসভাপতি ও এই সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক মীর শাহ আলম এবং দেবিদ্বার প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়ের সম্পাদক এম ফিরোজ মিয়া, এখন টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, সময় টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান বাহার রায়হান, দৈনিক আজকের আওয়াজের জেলা প্রতিনিধি মো. শহীদুল্লাহ মিয়াজী, মাই টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু মুছা, দৈনিক শিরোনামের প্রধান প্রতিবেদক মোতাহের হোসেন মাহাবুব, দৈনিক আজকের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার মো. শহীদুল্লাহ, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, পাঠাগার সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, দৈনিক আজকের দর্পণের জেলা প্রতিনিধি রবিউল বাশার খান, সময় টেলিভিশনের জেলা রিপোর্টার জহিরুল হক বাবু, সাপ্তাহিক গোমতীর সম্পাদক মোবারক হোসেন এবং দৈনিক কুমিল্লার আলোর সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম নয়; বরং এটি জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ, সত্য প্রকাশ এবং অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন কিংবা পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পর যথাযথ তদন্ত ও বিচার না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। ফলে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভার দ্বিতীয় পর্বে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার কুমিল্লায় কর্মরত আট সাংবাদিককে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনাপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন—যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, সময় টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান বাহার রায়হান, স্টার নিউজের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মারুফ, যুগান্তরের সাবেক চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, একুশে বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হাফিজ, বিজয় টেলিভিশনের প্রতিনিধি ম্যাক রানা, জাগরণী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আশিকুর রহমান আশিক এবং মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আরিফ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে তাঁদের সাহসিকতা ও সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার সহসভাপতি, লেখক ও কলামিস্ট ডা. আবদুল আউয়াল। পরে সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতনের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

